ইরানের রাজধানী তেহরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় একটি প্রাচীন ইহুদি উপাসনালয় সিনাগগ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা হামলার মধ্যে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের প্রভাবশালী দৈনিক শারঘ ও মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রাফি-নিয়া সিনাগগ’ হামলায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রভাবে উপাসনালয়টিও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকাজ এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হিব্রু ধর্মগ্রন্থ দেখা গেছে।

ইরানের পার্লামেন্টে ইহুদি প্রতিনিধি হোমায়ুন সামেহ নাজাফাবাদি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পবিত্র পাসওভার উৎসবের সময় একটি ঐতিহাসিক উপাসনালয় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি জানান, সিনাগগে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ তোরাহ স্ক্রলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে।
অন্যদিকে, ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রী আব্বাস সালেহি বলেন, “ধর্মীয় স্থান ও সভ্যতার ঐতিহ্যকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
তবে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার সময় ভবনটি খালি থাকায় সিনাগগে সরাসরি হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে তেহরান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বাঞ্চলের পারদিস ও পশ্চিমাঞ্চলের শাহরিয়ার এলাকায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরও ইরানে কয়েক হাজার ইহুদি বসবাস করছেন এবং দেশটির আইনে ইহুদি ধর্ম স্বীকৃত সংখ্যালঘু ধর্ম। বিশ্লেষকদের মতে, একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আর/

