আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৌ অবরোধ সংক্রান্ত পদক্ষেপের পর এই অঞ্চলের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
চীনের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। একই সঙ্গে ইরান থেকে আমদানিকৃত তেলের বড় অংশই বেইজিংয়ের জ্বালানি চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই রুটে বাধা সৃষ্টি হলে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি চীনা মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজ মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই ঘটনার পর চীন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে একে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চীন তার নৌবাহিনী মোতায়েন করে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের নৌ উপস্থিতি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে, চীন ইরানকে সামরিক সহায়তা দিতে পারে। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া গেলে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীর সংকট এখন শুধু আঞ্চলিক ইস্যু নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আর/

