সোনারগাঁয়ে জানাজা আটকে পাওনা টাকার দাবি, সমালোচনার মুখে বিএনপি নেতা

মৃত ব্যবসায়ীর দাফন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ; পাওনা টাকা পরিশোধের আশ্বাসের পর সম্পন্ন হয় জানাজা

by ABDUR RAHMAN
সোনারগাঁয়ে জানাজা আটকে পাওনা টাকার দাবি বিএনপি নেতার

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকায় পাওনা টাকা আদায়ের দাবিকে কেন্দ্র করে এক মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা সায়েম প্রধানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ঈদুল আজহার পরদিন সকালে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, গোপেরবাগ এলাকার ব্যবসায়ী গোলজার হোসেন দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঈদের দিন দুপুরে নিজ বাড়িতে মারা যান। পরদিন সকালে তার মরদেহ জানাজার জন্য মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হলে সনমান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান সেখানে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, মৃত গোলজার হোসেনের কাছে তার এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। ওই পাওনা পরিশোধ কিংবা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে দেওয়া হবে না বলেও অভিযোগ করা হয়।

মৃতের ভাগিনা সুমন মিয়ার দাবি, তার মামার সঙ্গে সায়েম প্রধানের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। অসুস্থতার কারণে জীবদ্দশায় সেই পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। জানাজার সময় মরদেহবাহী খাটিয়া আটকে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে পাওনা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং জানাজা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে পরিবারের একটি সূত্র দাবি করেছে, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৬ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়েছিল।

মৃত গোলজার হোসেনের ১২ বছর বয়সী ছেলে জিসান অভিযোগ করে বলে, তার বাবা মৃত্যুর আগে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সময় না দিয়ে জানাজার সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি করায় তারা কষ্ট পেয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জানাজায় কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং এমন ঘটনা অনেককে বিস্মিত করেছে। তারা বিষয়টিকে অনভিপ্রেত ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে সায়েম প্রধান বলেন, গোলজার হোসেনের কাছে তার দীর্ঘদিনের পাওনা ছিল। বহুবার তাগাদা দিয়েও টাকা পাননি। তবে তিনি দাবি করেন, জানাজা বন্ধ করাই উদ্দেশ্য ছিল না; বরং পাওনা টাকার বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারের সদস্যরা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, বিষয়টি পুলিশকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো।

স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় ও মানবিক একটি অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ