নামাজের সময় মাইক বন্ধের অনুরোধ করায় ইমামের ওপর হামলা, প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ঘটনার জেরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল জনপদ

by ABDUR RAHMAN
নামাজের সময় মাইক বন্ধের অনুরোধ করায় ইমামের ওপর হামলা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় নামাজের সময় মেলার উচ্চস্বরে মাইক বাজানো নিয়ে প্রতিবাদ করায় এক ইমামের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউসুফ আলী (৪২)। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

বিজ্ঞাপন
banner

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার গফরগাঁও পৌরশহরের জামতলা মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই সঙ্গে গফরগাঁও উলামা সমিতির উদ্যোগে রেলস্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আহত ইমামের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঈদ উপলক্ষে উপজেলার যশরা ইউনিয়নের বখুরা সরদারবাড়ি এলাকায় একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা ও রাতে মসজিদের পাশেই উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হচ্ছিল, যা মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নামাজ শেষে মাওলানা ইউসুফ আলী মেলার আয়োজকদের কাছে গিয়ে শব্দ কমানোর অথবা সাময়িকভাবে মাইক বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। এ সময় আয়োজকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজক সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ইমামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় লোহার রড ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয়। এতে তার চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান জখম হয়।

রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলায় তার চোখের কর্নিয়া ও রেটিনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। স্থানীয় আলেম মুফতি জহিরুল ইসলাম দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

এ ঘটনায় আহত ইমামের পরিবারের পক্ষ থেকে গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার (৩০ মে) দিবাগত গভীর রাতে প্রধান অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তিনি যশরা ইউনিয়নের বোয়ারা গ্রামের মৃত করিম মণ্ডলের ছেলে।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম আতিকুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাইফুলের শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ