হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানকে চীনের আহ্বান, বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জোর; ট্রাম্পের ‘স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত’ ঘোষণাও আলোচনায়

by ABDUR RAHMAN
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে এই আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
banner

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা যেমন সম্মান করা জরুরি, তেমনি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে বৈশ্বিকভাবে সর্বসম্মত আগ্রহ রয়েছে।

একই সঙ্গে ওয়াং ই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফেরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, বর্তমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী এখন থেকে ‘স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত’ রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে এটি আর কখনো অবরুদ্ধ হবে না। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে চীন সন্তুষ্ট এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বর্তমানে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং এটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইরানের একটি সুপার ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বহনে সক্ষম ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ‘আরএইচএন’ বুধবার খালি অবস্থায় উপসাগরে প্রবেশ করে। তবে এটি কোথায় যাচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকস্মিক হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা নিহত হন। এর পরপরই পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান, যা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও, পরবর্তীতে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় দেশই ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দায়ী করে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী ঘিরে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে, অন্যদিকে ইরানও নিজেদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে চীনের এই আহ্বান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ