অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন না সৎকার করা হবে—এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মরদেহ হেফাজতে নিয়েছে মোল্লাহাট থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন কাজী সোহাগ। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে একটি সন্তান রয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর পর তার স্ত্রী-সন্তানকে না জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং মরদেহ শ্মশানে নেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী ও সন্তান মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফনের দাবি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃতের মা দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন, সে বিবেচনায় দাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি তার ছেলে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও কাগজপত্র যাচাই শেষে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আর/

