ইরানের হামলায় সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমান ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হওয়া বিমানটি হলো বোয়িং ই-৩ সেনট্রি, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ১৬টি বিদ্যমান। এটি আকাশ থেকে যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ, শত্রু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত এবং সামরিক অভিযান সমন্বয় করার জন্য ব্যবহৃত হত।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, এ হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। একই সঙ্গে একাধিক রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে বোঝা গেছে, বিমানের উপরের রাডার ডোম বা ‘ফ্লাইং সসার’ সরাসরি আঘাতের ফলে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ইরান এই হামলা ড্রোন ব্যবহার করে চালিয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, হামলার আগে সৌদি ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি ইরানকে রাশিয়ার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল, যা হামলার নির্ভুলতা বাড়িয়েছে।
এই ধ্বংসই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন বিমান বোয়িং ই-৭ ওয়েজটেইল প্রতিস্থাপন করতে হলে খরচ ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং উৎপাদন সীমিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধ্বংস হওয়া বিমান দ্রুত রিপ্লেস করা সম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানও হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চাপ বজায় রেখেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এটি দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে এবং নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
আর/

