আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
একই সময়ে দাবানল, ভয়াবহ বন্যা এবং দাবানলের ধোঁয়ায় সৃষ্ট বায়ুদূষণের মতো তিন ধরনের চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন দুর্যোগ একযোগে আঘাত হানায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল। মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (NIFC) জানিয়েছে, বর্তমানে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। বজ্রপাতের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে আরও ১৭টি দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে, যা অঞ্চলটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত করেছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ১৭ হাজার ৪০০-এর বেশি দমকলকর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ এয়ার ট্যাঙ্কার মোতায়েন করা হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি।
এদিকে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে। গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ কোটির বেশি মানুষ দূষিত বাতাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এবং শিকাগোর বায়ুমানও বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরের তালিকায় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিল কান্ট্রি এলাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও ২৭ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জানিয়েছেন, বন্যায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বৃষ্টি কমলেও নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে একাধিক দুর্যোগ দেখা দেওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক জেসি বারম্যান বলেন, একই সময়ে একাধিক দুর্যোগের সম্মিলিত প্রভাব পৃথক দুর্যোগের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ হয়।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিদ মাইকেল মানের মতে, জেট স্ট্রিমের অস্বাভাবিক তরঙ্গধারা বা ‘রেজোন্যান্স’-এর কারণে চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় একই এলাকায় স্থির থাকে। তাঁর দাবি, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৯৫০-এর দশকের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন স্কুলের ডিন জনাথন ওভারপেক বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে একদিকে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতার কারণে ভারী বৃষ্টিপাতও বাড়ছে। ফলে একই সময়ে দাবানল, বন্যা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন ঘটছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং জাতিসংঘের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আমেরিকায় দাবানল, তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা এবং বায়ুদূষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আর/

