আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরে ঘেরা উচ্চ নিরাপত্তার কারাগার নির্মাণের বিতর্কিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগিয়েছে ইসরাইল। দেশটির হিব্রু গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কুমিরকে ‘ব্যবস্থাপিত (ম্যানেজড) বন্যপ্রাণী’ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করায় সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য নির্দিষ্ট শর্তে কুমির রাখার আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমান এ-সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে ইসরাইল প্রিজন সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে নিজেদের স্থাপনায় কুমির রাখতে পারবে। আগে কুমির সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকায় কেবল অনুমোদিত চিড়িয়াখানায় সেগুলো রাখা যেত।
প্রায় ছয় মাস আগে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য এমন একটি উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারের প্রস্তাব দেন, যার চারপাশে কুমিরে ভরা জলপরিখা থাকবে। তার দাবি, এতে বন্দিদের পালানোর ঝুঁকি কমবে এবং কারাগারের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা।
হিব্রু গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটির বাস্তবতা যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ইসরাইল প্রিজন সার্ভিসের কর্মকর্তারা কুমিরের পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করছেন। তবে কোথায় বা কবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্যও করেনি ইসরাইল প্রিজন সার্ভিস।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি অল্পবয়সী কুমিরের দাম প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার এবং একটি পূর্ণবয়স্ক কুমিরের দাম প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
বর্তমানে ইসরাইলের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিও আছেন। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, অনেক বন্দি অনাহার, নির্যাতন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, এসব কারণে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আর/

