অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের আওলাতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আটক দুজন হলেন আওলাতলী গ্রামের জামাল উদ্দিন ওরফে জামাল ড্রাইভারের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৪০) এবং ছেলে পারভেজ মিয়া (২৫)। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে আওলাতলী মধ্যপাড়া (পুরাতন) জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষকে জড়ো করা হয়। পরে স্থানীয়রা পারভেজ ও তার মা পারভীনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই উত্তেজিত জনতা ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনটি পাকা বসতঘর, চারটি টিনশেড ঘর, একটি রান্নাঘর এবং বাড়ির পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পারভেজ ও তার পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তা বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তারা। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল।
হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসার কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় ছিল। মাদকের কারণে অনেক তরুণ বিপথে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়া গেছে।
একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, পরিবারটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ ছিল। এর আগে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে দুই-তিনটি গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
আওলাতলী মধ্যপাড়া (পুরাতন) জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক নির্মূলে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এলাকাবাসী একত্রিত হয়েছিল। পরে ওই বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক ব্যবসার অভিযোগে পারভেজ ও তার মা পারভীন আক্তারকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়দের দাবিকৃত মাদক উদ্ধারের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদ্ধতি।
আর/

