অবৈধ ইটভাটা ও মাটি কাটা বন্ধে কঠোর অভিযানের হুঁশিয়ারি

মাদক, লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

by ABDUR RAHMAN

মাদক, অবৈধ মাটি কাটা ও লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, “পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। অবৈধভাবে মাটি কাটলে মামলা অনিবার্য—কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকালে দেবিদ্বার উপজেলার মোহাম্মদপুর ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
banner

টপসয়েল কাটার ক্ষতি ভয়াবহ
ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বা টপসয়েল কাটার পরিণতি তুলে ধরে এমপি বলেন, “দুই একর জমি থেকে টপসয়েল কাটলে তার প্রভাব আশপাশের ১০ থেকে ১৫ একর জমিতে পড়ে। সাময়িক লাভের জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদে কৃষির বড় ক্ষতি করছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, গোমতী চরের মাটি কেটে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ নষ্ট করা হচ্ছে। এতে বাঁধ ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রতিবছর বন্যায় ফসল, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এসব মেরামতে সরকারকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
এলাকায় পরিচালিত ২২টি ইটভাটার অধিকাংশের লাইসেন্স নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে, পরিবেশের ক্ষতি না করে শর্ত মেনে ব্যবসা করছেন, তাদের বাইরে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন হচ্ছে, যা কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনগণের কাছেই জবাবদিহিতা
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এমপি হাসনাত বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। জনগণের কাছেই আমার জবাবদিহিতা—কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ব্যবসায়ীদের কাছে নয়।” তিনি নদী-খাল পুনঃখনন ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে কৃষিকে টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা
দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আয়োজক সংগঠনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত করতে পারলে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় অনেকটাই কমে আসবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। শেষে প্রায় পাঁচ শতাধিক অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ