অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তার বক্তব্য, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ ধরে নেবে, এসব ঘটনায় বিএনপির নীরব সমর্থন রয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের আহত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজের ঘটনার উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, এসব হামলায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা জড়িত।
তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে হেলমেট ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ উঠেছিল, এখন একই ধরনের কৌশল আবারও দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের সহিংসতা শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নিজেও হামলার শিকার হন। একজন শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেবল নিন্দা বা বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা উচিত নয়; হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় জনগণের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে।
হাসপাতালেও আহতদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের স্বজনরাও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েছেন। এমনকি একজন আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যাওয়া তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হলে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থী আলিফকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দেখতে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ এখনো খোঁজ নেননি। জনগণের সরকার হিসেবে সবার প্রতি সমান দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের সমস্যা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলে তা জনগণ মেনে নেবে না।
শেষে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান এবং ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

