অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে হাজতি এক আসামির হাতে স্বজনের দেওয়া পাউরুটির ভেতর থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার (২ আগস্ট) নিয়মিত হাজিরার জন্য মামুন নামের এক আসামিকে কারাগার থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে তাকে পুনরায় হাজতখানায় নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে তার কয়েকজন স্বজন খাবার হিসেবে একটি পাউরুটি দিতে চান।
আদালত সূত্র জানায়, দায়িত্বে থাকা এসকর্ট পুলিশ সদস্য প্রথমে আপত্তি জানালেও স্বজনদের অনুরোধে মানবিক বিবেচনায় পাউরুটিটি আসামির হাতে দেওয়া হয়। পরে হাজতখানার মূল ফটকে প্রবেশের আগে নিয়মিত তল্লাশির সময় পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হলে পাউরুটিটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার একপর্যায়ে পাউরুটির এক পাশে ছোট একটি ছিদ্র দেখা যায়। সেটি খুলে দেখলে ভেতরে কাগজে মোড়ানো তিনটি গাঁজার পুরিয়া এবং তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো জব্দ করা হয়।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কনস্টেবল শাহেদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ধরনের খাবার বা প্যাকেট ভেতরে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। তবে আসামির স্বজনদের জোরাজুরির কারণে মানবিক বিবেচনায় পাউরুটিটি দেওয়া হয়েছিল। পরে হাজতখানার গেটে তল্লাশির সময় মাদক উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বলেন, ঘটনাটি একটি গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে খাবারটি কে দিয়েছে, তা শনাক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আসামিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আদালতের হাজতখানা এবং কারাগার থেকে আসামি আনা-নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের নতুন করে ব্রিফ করা হয়েছে এবং প্রতিদিন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আর/

