নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পোশাককে কেন্দ্র করে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ‘শর্টস পরেই মেট্রোতে উঠি!’ কর্মসূচি ঘোষণার পর তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা জাকির হোসাইন এ আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে এক ব্যক্তির পোশাককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনাকে পুঁজি করে হাফ প্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চলাচলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ফেসবুক ইভেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৫টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ফার্মগেট স্টেশনে কর্মসূচিটি পালনের কথা রয়েছে।
তারা বলেন, যেকোনো নাগরিক হয়রানির বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে প্রতিবাদের নামে ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক শালীনতা ও তাহজিব-তমাদ্দুন উপেক্ষা করে জনসম্মুখে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একটি মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্রে এ ধরনের কর্মসূচি পশ্চিমা অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তারা যুবসমাজকে এ ধরনের কর্মসূচির অংশ না হওয়ার আহ্বান জানান।
তারা ইসলামে পোশাক ও শালীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আ’রাফে পোশাককে মানুষের লজ্জাস্থান আবৃত করার পাশাপাশি সৌন্দর্যের উপকরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) লজ্জাশীলতাকে ঈমানের একটি শাখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সূরা আন-নূরেও মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দের মতে, মেট্রোরেলের মতো সর্বজনীন গণপরিবহনে দলবদ্ধভাবে হাফ প্যান্ট পরে চলাচলের কর্মসূচি তরুণ প্রজন্মের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে তারা যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আবেগ বা জেদের বশে কোনো উসকানিমূলক কর্মসূচির অংশ না হয়ে আগামী বৃহস্পতিবারের কথিত প্রতীকী কর্মসূচি অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।
উল্লেখ্য, ২৭ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে রানিং কোচ সাজ্জাদ হোসেনকে হাফ প্যান্ট পরার কারণে এক পুলিশ সদস্য থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষায় রাখেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে মেট্রোরেলে চলাচলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ড্রেস কোড নেই বলে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

