তোলারাম কলেজে ছাত্রশিবির-ছাত্রদলের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা; দেড় ঘণ্টা পর পুলিশের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

by ABDUR RAHMAN
তোলারাম কলেজে ছাত্রশিবির-ছাত্রদলের দফায় দফায় সংঘর্ষ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

প্রত্যক্ষদর্শী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কলেজ রোড থেকে চাষাঢ়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা, বাঁশ ও লোহার পাইপ দেখা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে তোলারাম কলেজের সামনের সড়কে যান চলাচল প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান দাবি করেন, কলেজের ভেতরে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার জের ধরে ছাত্রদল এ হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি নিজেও মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলে জানান।

অন্যদিকে, তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ অপু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবির বিএনপির বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়। এর প্রতিবাদ জানানো হলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।

তার দাবি, ছাত্রশিবির আগে থেকেই বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল। হামলায় ছাত্রদলের পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তুহিন ও সেলিমের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

একই অভিযোগ করেন তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া। তিনি বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হলেও কোনো উস্কানি ছাড়াই ছাত্রশিবির তাদের ওপর হামলা চালায়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, সংঘর্ষে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে কেউ গুরুতরভাবে আহত হননি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ ঘটনার তদন্ত শেষে যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মিশনপাড়ায় নিজেদের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আল্লামা ইকবাল রোড, জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় মিছিল করেন। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ