দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদলের হামলার নিন্দা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক হামলা, নির্যাতন ও দখলদারিত্বের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস। সংগঠনটি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

by Master Fatih
ছাত্রদলের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | হুদহুদ নিউজ

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সাম্প্রতিক ছাত্রদলের হামলা, নির্যাতন এবং শিক্ষাঙ্গনে দখলদারিত্বের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস। একই সঙ্গে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন
banner

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ, সভাপতি পরিষদ সদস্য হাবীবুল্লাহ মিসবাহ এবং মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ কর্মসূচি চলাকালে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, আবাসন সংকট নিরসন এবং মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠার দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী, সাধারণ ও নারী শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), এমসি কলেজ, পটুয়াখালীর কলাপাড়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, সাংবাদিক, গ্রন্থাগারের কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো দেশের শিক্ষাঙ্গনে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি করছে এবং ভিন্নমত দমনে সহিংসতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষাঙ্গনে মতপার্থক্যের জবাব কখনোই অস্ত্র, লাঠিসোঁটা কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে হতে পারে না। কোনো ছাত্রসংগঠন যদি শক্তি প্রদর্শন, ভীতি সৃষ্টি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি অনুসরণ করে, তবে তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং আইনের শাসনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তারা বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো আধিপত্যবাদী আচরণ ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রতিটি হামলার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবে অপরাধীরা দায়মুক্তি পেলে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে এবং শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের উন্নত চিকিৎসা এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ