অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
শিক্ষাখাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ প্রদান, কওমি মাদরাসা সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার সকল স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে রাজধানীতে ‘জাতীয় ছাত্র কনভেনশন’ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে শাহবাগ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব অতিক্রম করে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গিয়ে শেষ হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। এছাড়া কনভেনশনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রথম শহীদ আরমানের বড় ভাই মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলা। তবে বর্তমান ধারার শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী মৌলিক শিক্ষার অনুপস্থিতি একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র মজলিসের উত্থাপিত ১৩ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি অনতিবিলম্বে সকল স্তরে কুরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা চালু করা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ করার দাবি জানান। এছাড়া তিনি গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ রায়হান আলী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে আল্লাহর নির্দেশিত পথ থেকে দূরে সরিয়ে এক সেক্যুলার ও ভোগবাদী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যে শিক্ষা মানুষকে খোদাভীরু ও চরিত্রবান বানায় না, তা দিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি কুরআনিক আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধের আলোয় আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কনভেনশন থেকে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রতিটি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সেশনজট ও নিয়োগ দুর্নীতি রোধ, আবাসন সংকট নিরসন ও ক্যাম্পাসে হল দখল-ট্যান্ডারবাজি বন্ধ করা। এছাড়া শিক্ষাসামগ্রীর মূল্য হ্রাস, ছাত্রীদের জন্য আলাদা শিফট চালু, শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা, প্রতি জেলায় সরকারি আলিয়া মাদরাসা স্থাপন, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং পাঠ্যবই থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী লেখা বাদ দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, সাবেক উপদেষ্টা ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, উর্দু বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুফতি গোলাম রাব্বানী, ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী ছাত্র মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনের প্রধানগণ।

