খুলে পড়ছে পলেস্তারা, ভাঙাচোরা জানালা-দরজা। সম্প্রতি ভূমিকম্পে ফাটল ধরেছে পুরো ভবনে। কোনোমতে মেরামত ও রং করে চালানোর চেষ্টা করলেও মাঝেমধ্যেই ঘরের ছাদ থেকে খুলে পড়ছে বড় বড় ইট-সিমেন্টের টুকরা। তাই বাধ্য হয়ে কনকনে শীতের মধ্যে খোলা মাঠে পাবনার চাটমোহর উপজেলার নবীণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, বর্ষাকালে নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটা মেঠো পথ ছাড়া উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের নবীণ গ্রামে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। সেই গ্রামের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ৬ নম্বর নবীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর অন্তত চার বছর পর ১৯৪৭ সালে স্কুলটিতে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯২ সালে তিনকক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়।
এরপর ২০১০ সালে দুই কক্ষবিশিষ্ট আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের কাজের কারণে প্রথম ভবনটি বেহাল দশায় পরিণত হয়।
ওই স্কুলে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩১ জন। ২০১০ সালের নির্মাণকৃত একতলা বিশিষ্ট দুই কক্ষ ভবনের একটিতে অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
অন্যটিতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে। আর ১৯৯২ সালে নির্মিত ভবনটি জরাজীর্ণ। চারদিকে যখন ব্যাঙের ছাতার মতো কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের আধিক্য, ঠিক তখন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মধ্যে অবস্থিত নবীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে ভবনের এ অবস্থা দেখে বেশ কিছু অভিভাবকই তাদের সন্তানদের আশপাশের কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে ভর্তি করেছেন। অতিসত্বর ওই স্কুলে একটি নতুন ভবন করা না গেলে শিক্ষার্থী ধরে রাখা কঠিন হবে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান।
বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের শ্রেণিকক্ষের অবস্থা খুবই খারাপ। মাঝে মাঝেই ছাদ থেকে ইট-সিমেন্টের টুকরো খুলে পড়ে। তাই ভয়ে বাইরে খোলা মাঠে বসে ক্লাস করছে। তাদের স্কুলে নেই কোনো ওয়াশরুম। নতুন ভবন ও স্কুলের পরিবেশ সুন্দর করার আবেদন জানায় তারা।
প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, “১০ বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বাধ্য হয়ে শীতের মধ্যে খোলা মাঠে পাঠদান করাচ্ছি। একটি নতুন ভবনের জন্য বেশ কয়েকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছি, কিন্তু ভবন পাইনি।” এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থী ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল গণি বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ভবনের জন্য বেশ কয়েকটি স্কুলের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। তালিকায় নবীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামও ছিল।” তবে বিষয়টি নিয়ে আবারও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
আর/

