আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, ওয়াকফ সম্পত্তি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি), আইনি সহায়তা এবং বিভিন্ন বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও সমাজের প্রতিনিধিরা একটি যৌথ জাতীয় মঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সব মত ও পথের মুসলিম সংগঠনকে এক ছাতার নিচে এনে সমন্বিতভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জয়পুরের হোটেল আর্কো প্যালেসে অনুষ্ঠিত ‘ওয়াকফ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিষয়ক সংলাপ’ শীর্ষক জাতীয় সিম্পোজিয়ামে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া (এসডিপিআই) আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা’।
সম্মেলনে বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের জাতীয় সহ-সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ খান আজমি যৌথ জাতীয় মঞ্চ গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। উপস্থিত প্রতিনিধিদের অধিকাংশই এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওয়াকফ, ইউসিসি, বন্দে মাতরম বিলসহ মুসলিম সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমন্বিত আন্দোলন ও কার্যক্রম পরিচালনা করবে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম।
এছাড়া মঞ্চটির উপযুক্ত নাম নির্ধারণে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াকফ, ঘৃণাভিত্তিক অপরাধ, আইনি সহায়তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার জন্য পৃথক বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ভারতীয় মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় পরামর্শ’ শীর্ষক আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করে ইন্ডিয়ান মুসলিমস ফর সিভিল রাইটস (আইএমসিআর)। সেখানে দেশের প্রায় ১১০টি ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় সার্বিক দিকনির্দেশনা দিতে ৫১ সদস্যের জাতীয় পরামর্শক কমিটি এবং ১১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আয়োজকদের দাবি, অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ছাড়া ভারতের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম সংগঠন ও বিশিষ্ট নেতারা এ বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনায় সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, গণপিটুনি (লিনচিং), মসজিদ ও মাদরাসা উচ্ছেদ অভিযান, ইউসিসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ, মাদরাসা নিয়ন্ত্রণ এবং মুসলিমদের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জয়পুর ও নয়াদিল্লির এই দুই সম্মেলনেই বক্তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজের অধিকার রক্ষা, কার্যকর আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বহুত্ববাদ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শ রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
জয়পুরের সিম্পোজিয়ামে সভাপতিত্ব করেন এসডিপিআই-এর সর্বভারতীয় সভাপতি এম. কে. ফায়জি। এতে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা উবায়দুল্লাহ খান আজমি, জাহীর আব্বাস রিজভী, মুজতবা ফারুক, শাহিদ হাসান, সৈয়দ সরওয়ার চিশতী, ফিরোজ আহমদ, ফাহাদ রহমানি, সৈয়দ জুবায়ের আহমদ, শামস তাবরেজ কাসমি, হাফিজ মনজুর আলী খানসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অন্যদিকে দিল্লির বৈঠকে অংশ নেন সংসদ সদস্য ইকরা হাসান, মহিবুল্লাহ নদভি, ইমরান মাসুদ, জিয়াউর রহমান বারক, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ড. ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সালমান খুরশিদ এবং মহারাষ্ট্রের বিধায়ক আবু আসিম আজমীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আলেম, রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সম্মেলনগুলোতে অংশ নেওয়া নেতারা একযোগে অঙ্গীকার করেন, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের মুসলিম সমাজের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।
সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট
আর/

