আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পোশাক নিয়ে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বোরকা ও আবায়া পরার কারণে প্রসবকক্ষে (লেবার রুম) প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগে হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ ও কাজ বর্জন করেছেন শিক্ষানবিশ (জিএনএম) নার্সিং শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)। আন্দোলনরত ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের প্রধান ডা. মধু চিব ধর্মীয় পোশাক পরার কারণে এক নার্সিং শিক্ষার্থীকে লেবার রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটে পরদিনও; অন্য দুই শিক্ষার্থীকেও বোরকা পরা অবস্থায় গাইনোকোলজি বিভাগের লেবার রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
শিক্ষার্থীরা এ ঘটনাকে সরাসরি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও হয়রানি হিসেবে দেখছেন। বোরকা ও আবায়ার পরিবর্তে কেবল সাধারণ অ্যাপ্রন পরার নির্দেশ দেওয়াকে তারা অপমানজনক আখ্যা দিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক প্রতিবাদ জানান। পরে কলেজ প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও মর্যাদা রক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানান।
তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. ইরফান তাসাদ্দুক জানান, গাইনোকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মধু চিব কেবল শিক্ষার্থীদের ঢিলেঢালা পোশাক ঠিক করে তার ওপর চিকিৎসাসংক্রান্ত গাউন পরে নিতে বলেছিলেন। প্রসবকক্ষ অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হওয়ায় এবং রোগীদের সংক্রমণের বড় ঝুঁকিমুক্ত রাখতে চিকিৎসকদেরও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দিষ্ট ড্রেস কোড মেনে চলতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনীতিকদের মধ্যেও জোর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ডোডার স্থানীয় বিধায়ক মেহরাজ মালিক বিষয়টি সরাসরি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইটুর কাছে তুলে ধরেন। এছাড়া ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান মুখপাত্র তানভীর সাদিক এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে তার নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার দিয়েছে। কোনো নারী হিজাব বা বোরকা পরবেন কি না, তা একান্তই তার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে ইন্টার্নদের কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে প্রশাসন একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ফিজিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. গরিমা চরককে প্রধান করে আট সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে একটি ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, মেডিকেল কলেজটিতে এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিকভাবে নেতৃত্বহীন। সাবেক অধ্যক্ষ ডা. দেব রাজ ডোগরা স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণে সম্প্রতি পদত্যাগ করায় বর্তমানে কোনো স্থায়ী অধ্যক্ষ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: এনডিটিভি ও মুসলিম মিরর

