ভোটার খাতা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ: ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে তারকা থেকে রাজনীতিক

দিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাইসহ বিভিন্ন স্থানে রাজপথে বিরোধী ও শিক্ষার্থীরা; যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট, আতিশিসহ আটক ১,১০০ প্রতিবাদী

by ABDUR RAHMAN
ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে তারকা থেকে রাজনীতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ব্যাপক কারচুপি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পুরো দেশজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঐতিহাসিক গান্ধী জয়ন্তীর দিনে রাজধানী নয়াদিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতা ও রাঁচিসহ বড় বড় শহরগুলোতে বিরোধী রাজনৈতিক দল, সর্বস্তরের শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ একযোগে রাজপথে নেমে আসেন। ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা দিতে সরকারবিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে সর্বস্তরের মানুষ সিইসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠেন।

নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে প্রশাসন। সেখানে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৬৩ ধারা জারি, একাধিক স্তরের ব্যারিকেড তৈরি এবং ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি মেট্রোর অন্তত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের যাতায়াত পথ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি যন্তর মন্তর ও তার চারপাশের দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে টানা ১২ ঘণ্টার জন্য এয়ারটেল, জিও ও ভোডাফোনের মতো টেলিকম নেটওয়ার্কের ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের চরম বাধা ও কড়াকড়ি সত্ত্বেও হাজার হাজার ক্ষুব্ধ মানুষ রাজপথে নেমে এলে আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষ নেত্রী আতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জয় সিং, সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝাসহ অন্তত ১,১০০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। আইসা, এসএফআই ও এনএসইউআইয়ের মতো শীর্ষ ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মীরাও এই আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা পালন করছেন। অন্যদিকে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আহ্বানে আয়োজিত অঘোষিত ‘জেলে ভরো’ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামেন জনপ্রিয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেও অভিযোগ অস্বীকার করে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এটিকে বিরোধীদের তৈরি ‘মিথ্যা আখ্যান’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিয়ম মেরেই সর্বসম্মতিক্রমে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে এবং ভুলবশত কারও নাম বাদ পড়লে তা পুনরায় যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তবে কমিশনের এমন ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নতুন কমিশন গঠন ও বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত গোয়া, বেঙ্গালুরু, পাটনা, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশে আন্দোলন আরও বেগবান করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ