কওমি সনদের সম্মানজনক চাকরি ও ভারতীয় আগ্রাসন রোধের দাবিসহ জমিয়তের ১০ দফা প্রস্তাব

নিত্যপণ্যের দাম ও জ্বালানি সংকট নিরসন, কওমি আলেমদের মর্যাদা এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের তাগিদ দিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বার্তা।

by ABDUR RAHMAN
কওমি সনদের সম্মানজনক চাকরি ও ভারতীয় আগ্রাসন রোধের দাবিসহ জমিয়তের ১০ দফা প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস রোধ, কওমি সনদের যথার্থ মূল্যায়ন এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারসহ ১০ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন
banner

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ‘শুরা অধিবেশন-২০২৬’-এ গুরুত্বপূর্ণ এই দাবি ও প্রস্তাবনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে যৌথ সঞ্চালনা করেন মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া।

উত্তাপিত প্রস্তাবাবলিতে বলা হয়, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা হলেও বাস্তবে তার কোনো সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। ফলে পরিবহন খাত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। অসাধু সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য রুখে দিয়ে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকারের চরম ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেন নেতারা।

দেশের শান্তিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে বলা হয়, সম্প্রতি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেবা খাতে যে দুর্বৃত্তায়ন ও হামলার ঘটনা ঘটছে, তা নাগরিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, নির্বাচনকেন্দ্রিক পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়, অন্যথায় জনমনে চরম বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরে শুরা অধিবেশনে কওমি শিক্ষার্থীদের দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) সনদ থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিকে কেবল ‘কারি শিক্ষক’ হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এর পরিবর্তে কওমি গ্র্যাজুয়েটদের কামিল স্তর পর্যন্ত আলিয়া মাদ্রাসা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পদে নিয়োগের দাবি তোলা হয়। এছাড়া, সরকারি তহবিল থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বণ্টনে দলীয়করণের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ইনসাফ কায়েমের তাগিদ দেন নেতারা।

আন্তর্জাতিক ও সামাজিক ইস্যুতে প্রস্তাবে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ থামাতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে জোরালো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা রাখতে হবে। একই সাথে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মুসলিম সংস্কৃতি সুরক্ষায় প্রথাগত ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসন মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

এছাড়াও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের গড়িমসি কিংবা প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামের পবিত্রতা রক্ষায় কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়ে অধিবেশন শেষ হয়।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ