অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের রুটিতে ধারালো ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার ঘটনাটি ঘটলেও বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম বিদ্যালয় পরিদর্শনের পর তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হাসপাতালের পুষ্টিবিষয়ক চিকিৎসক ও স্যানিটারি কর্মকর্তা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলমতাজ টিফিনের জন্য দেওয়া রুটি ছিঁড়ে খাওয়ার সময় ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড দেখতে পায়। পরে সে বিষয়টি তার শ্রেণিশিক্ষক শারমিন জাহানকে জানায়। ব্লেডটি আগে থেকেই দেখতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীটি কোনো শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়নি।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা সায়ফুন নাহার জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মৃধাকে অবহিত করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে ইউএনও মো. ইব্রাহিম বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শন করে রুটিটি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রুটির ভেতরে ব্লেড ছিল। কীভাবে এটি ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাতে বিলম্ব হওয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান বলেন, স্কুলে সরবরাহ করা রুটি কোকাকোলা ম্যানুফ্যাকচারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে উৎপাদিত হয়। তার দাবি, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এমন বড় আকারের ধাতব বস্তু থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা যাচাই করলে পরিষ্কার হবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিড-ডে মিল ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান নিয়ে এর আগেও বিচ্ছিন্ন অভিযোগ উঠেছে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে ধারালো বস্তু পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ।

