সিরাজগঞ্জে লংমার্চ শেষে জামায়াত নেতাদের ওপর হামলা, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

‘জোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হতেই সয়দাবাদে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম; বগুড়ায় স্থানান্তর ১’

by ABDUR RAHMAN
সিরাজগঞ্জে লংমার্চ শেষে জামায়াত নেতাদের ওপর হামলা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে সরাসরি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

আজ শনিবার দুপুরের পর যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়ক সংলগ্ন সয়দাবাদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুস সবুর এবং জামায়াত কর্মী নুরুন্নবী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও জামায়াত সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল লংমার্চের গাড়িবহর যমুনা সেতু পার হয়ে সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করার পর আব্দুস সবুর স্থানীয় একটি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বের হওয়া মাত্রই দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আব্দুস সবুরের দুই হাত, পা ও পিঠে একাধিক গুরুতর কুপিয়ে জখম করার দাগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সকাল থেকেই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একটি চক্র লংমার্চের বহরে হামলার চেষ্টা করছিল। তবে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের শক্ত প্রতিরোধের মুখে তারা সে সময় সুবিধা করতে পারেনি। পরবর্তীতে মূল বহর সয়দাবাদ অতিক্রম করে চলে গেলে বিচ্ছিন্নভাবে থাকা জামায়াত নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে বিএনপি কর্মীরা হামলা চালায়।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ছুটির দিন হওয়ায় সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে আহত সবুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম স্পষ্ট অভিযোগ করে বলেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকের নির্দেশে ও মদদে এ হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি কর্মী হাসান (পিতা মো. তারা), পারভেজ (পিতা মজনু), আল আমিন ও হাসান (পিতা আমজাদ)-সহ বিএনপির একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুস সবুর ও নুরুন্নবীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।

অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা ও বক্তব্য জানতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং আহত জামায়াত নেতাকর্মীকে দেখে আসা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ