অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা, সংসদ সদস্য পদ বাতিল এবং দলীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। মিছিলটি পৌরসদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী ঝাড়ু ও জুতা হাতে গাজী নজরুল ইসলামের ছবিতে প্রতীকী আঘাত করেন। পরে শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ সোলায়মান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির নেতা গাজী শাহ আলম।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুর জাহান পারভীন ঝর্ণা, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবু সাঈদসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার কথা বলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। তাদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংসদ সদস্য হিসেবে তার মর্যাদা এবং জনআস্থার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তাদের দাবি, আলোচিত ঘটনাটি প্রথমদিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হয়। তবে বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের যাচাইয়ের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এরপর সংশ্লিষ্ট তরুণীকে বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, যদি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ সময় গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দল থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি জাতীয় সংসদের স্পিকারের প্রতি সংসদ সদস্য হিসেবে তার পদ বাতিলের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। তারা দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতিও অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আর/

