অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও ইসলামিক স্কলার মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, জামায়াতের আকিদা খারাপ বলে যে দাবি করা হয়, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামী একটি রাজনৈতিক দল, যেখানে বিভিন্ন শিক্ষাধারা ও বিভিন্ন মাসলাকের মানুষ একসঙ্গে কাজ করেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর আকিদাকে পুরো দলের আকিদা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।
দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত ‘কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি উসামার দাবি, জামায়াত কখনো নিজেদের মওদুদীর আকিদার অনুসারী বলে ঘোষণা দেয়নি। বরং দলের গঠনতন্ত্রে কুরআন ও সহিহ হাদিসভিত্তিক আকিদার কথাই উল্লেখ রয়েছে। তাঁর মতে, জামায়াতের বিরুদ্ধে আকিদা নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়, তার অধিকাংশই আদর্শগত নয়; বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে পরিচালিত।
তিনি আরও বলেন, কওমি একটি শিক্ষাধারা, কোনো রাজনৈতিক দল নয়। ফলে কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা করা ব্যক্তিরা নিজ নিজ বিবেচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অংশ নিতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে কওমি অঙ্গনের একাধিক আলেম বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কেউ কেউ সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন।
সেক্যুলার রাজনৈতিক দল ও ইসলামি রাজনৈতিক দল নিয়ে ভিন্ন ধরনের মূল্যায়নেরও সমালোচনা করেন মুফতি উসামা। তাঁর বক্তব্য, যদি কোনো কওমি আলেম বা শিক্ষার্থী সেক্যুলার রাজনৈতিক দলে যুক্ত হলে তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে, তাহলে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলে একই ধরনের প্রশ্ন তোলার যৌক্তিকতা কোথায়—এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, জামায়াতে দেওবন্দি, মাদানি, আজহারি শিক্ষাধারার অনুসারী ছাড়াও হানাফি, লা-মাজহাবি, সুন্নি, তাবলিগিসহ বিভিন্ন ধারার মানুষ রয়েছেন। এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিও অতীতে দলটির প্রার্থী হয়েছেন। এ কারণে জামায়াতকে একটি নির্দিষ্ট আকিদার দল হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেওবন্দি পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেওবন্দিয়াত কোনো রাজনৈতিক দলের নাম নয়; এটি একটি ধর্মীয় শিক্ষা ও চিন্তার ধারা। তিনি নিজেকে অতীতের মতো এখনও দেওবন্দি বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও কওমি মাদরাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ইচ্ছার কথা জানান।
এদিকে আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কওমি ঘরানার কয়েকজন পরিচিত আলেম সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এক বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনটির নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়ছে—এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কওমি তরুণদের একটি অংশ বিএনপির প্রতিও ঝুঁকছেন, যদিও সে বিষয়টি বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
সবশেষে মুফতি আলী হাসান উসামা ইসলামি শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি পরিহার করে জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং ইসলামের দাওয়াতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

