অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ফ্রান্সে গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে দেশটির সরকার।
শনিবার দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে বিভিন্ন সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া শত শত দোকান ভাঙচুর ও বড় ধরনের লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালায়। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উদ্ভুত এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং করণীয় নির্ধারণ করতে রোববার জরুরি বৈঠকে বসেছে ফরাসি সরকার।
তীব্র এই সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বলে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
এরই জেরে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগ দাবি করেছেন দেশটির বামপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি শীর্ষ রাজনীতিকেরা।
বিক্ষোভ চলাকালে উগ্র আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পাশাপাশি তারা বেশ কিছু বাসস্টপ ভাঙচুর করে, সড়কে ভারী ব্যারিকেড স্থাপন করে এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালায়।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
উল্লেখ্য, আগামী বসন্তেই ফরাসি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তার ক্ষমতা ছাড়ার কথা রয়েছে।
এদিকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মেরিন লে পেন জনমত জরিপে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
এমন রাজনৈতিক টানটান উত্তেজনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবারের এই বিক্ষোভ ও আন্দোলন সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে বেশ জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসসহ ফ্রান্সের প্রধান প্রধান বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নেন।
মূলত শিক্ষার্থীদের জরাজীর্ণ স্কুলগুলো দ্রুত সংস্কার করা এবং আরও বেশি শিক্ষক নিয়োগের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
এতে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রবীণ ব্যক্তি, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
এছাড়া ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদও ছিল তাদের অন্যতম প্রধান দাবি।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ব্যানার হাতে নিয়ে সরকারি সেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর জোর দাবি জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কথা না শোনার অভিযোগ তোলেন।
টাকা চার সপ্তাহ ধরে চলে আসা আন্দোলন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যারিকেড কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবেই এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে এর পাশাপাশি কিছু বিচ্ছিন্ন উগ্র গোষ্ঠী ও সুযোগসন্ধানীরা মূল মিছিল থেকে আলাদা হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে।
তারা বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ব্যারিকেড স্থাপন এবং পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ ও দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়ে।
প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে এই বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, যা সামাল দিতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসন কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল।
এ ছাড়া একশ্রেণির মুখোশধারী লুটেরারাও রাস্তায় তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেয়।
তারা বিভিন্ন দোকানের সামনের কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে মূল্যবান পণ্য লুট করে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান ফরাসি সরকারকে এখন এক অত্যন্ত জটিল দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
একদিকে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ জনগণের তীব্র অসন্তোষ সামাল দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে কঠোর হস্তে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বড় চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে ম্যাক্রোঁ প্রশাসনকে।

