অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং রাজনীতিবিদদের একাংশের দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিকদের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দেশের সাধারণ কর্মী ও জনসাধারণের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি সম্প্রতি একটি বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে তার তিন ছেলে আমেরিকার সিটিজেন এবং সেখানেই ভালো জব করে শান্তিতে আছে। চিফ হুইপের এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ ও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেমের নমুনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওই পোস্টে তিনি লেখেন, আমাদের দেশের রাজনীতিকেরা দেশটাকে এতটাই ভালোবাসেন যে, এই দেশের মাটিতে নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে পর্যন্ত ভরসা পান না! সে জন্য তারা নিজের সন্তানকে বিদেশে রেখে আরেকজনের সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে নিজেদের পেছনে রাজনীতি করায়।
সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের রাজনৈতিক অন্ধত্ব থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, বোকা প্রকৃতির জনতা এসব নেতার পেছনে ঘুরে ঘুরে জীবন নষ্ট করে, পরিবারের হক নষ্ট করে। অর্থের অভাবে কর্মীর সন্তানকে চিকিৎসা করাতে হয় চানখাঁরপুলে, আর নেতার ছেলে সে সময় বিদেশে মাস্তি করে। নেতার এই দ্বিমুখী রূপ তুলে ধরে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি প্রাবন্ধিক উচ্চারণ টানেন—‘নিজের ছেলে লন্ডনে পড়ে, পরের ছেলে রাস্তায় মরে।’
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বৈষম্যমূলক ও স্বার্থপর রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশের তরুণ সমাজকে হতাশ করছে। সাধারণ কর্মীদের আত্মত্যাগকে পুঁজি করে একশ্রেণির নেতার এমন আত্মঘাতী আচরণ থেকে বেরিয়ে এসে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এই তরুণ সংসদ সদস্য।

