কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৮ দিন পর চার মাস বয়সী শিশু আশরাফুলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ৩ মার্চ বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিশুটির আপন চাচি রুপা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রুপা আক্তার (২০) শিশুহত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, আট বছর আগে আশরাফুলের ছোট চাচা আবদুল হাকিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আট মাস আগে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে তিনি ও তার মেয়ে অবহেলার শিকার হন এবং ভরণপোষণও ঠিকমতো পান না। তার অভিযোগ, পরিবারের বড় ভাইয়ের সন্তানদের প্রতি বেশি স্নেহ দেখানো হতো, যা নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভ ও হিংসা তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের মানসিক কষ্ট ও ক্ষোভ থেকে তিনি পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
ঘটনার দিন গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে খাইয়ে বাড়ির পাশে ঝাড়ু দিতে যান। তখন শিশুটি ঘরের ভেতরে দোলনায় ঘুমিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দোলনায় তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘর ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরবর্তীতে ২৮ দিন পর বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
আর/

