নরসিংদীর আলোচিত কিশোরী আমেনা (১৫) হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে তার সৎ বাবা আশরাফ আলী জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে নরসিংদী পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক জানান, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আমেনাকে হত্যা করেন তার সৎ বাবা আশরাফ আলী। হত্যার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে অন্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানোর চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে সৎ বাবার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর গত শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে নিজ বাড়ি থেকে আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একইদিন সন্ধ্যায় তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, মামলার অন্যতম আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮)-এর সঙ্গে ভুক্তভোগীর আগে থেকে সম্পর্ক ছিল। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে কোতালিরচরের হযরত আলীর বাড়িতে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নূরা, এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০) ও গাফফার (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া ধর্ষণের ঘটনার পর শালিশ করে আমেনার পরিবারকে এলাকা ছাড়ার অভিযোগে স্থানীয় আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান, প্রতিবেশী মো. আইয়ুব (৩০) ও ইছাহাক ওরফে ইছাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সৎপিতাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর/

