মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের আটক

শিক্ষার্থী আন্দোলনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি; শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, সংসদে আলোচনা ও শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি কংগ্রেসের।

by ABDUR RAHMAN
মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
banner

মঙ্গলবার নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে কংগ্রেস। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের জবাবদিহি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মসূচি থেকে কংগ্রেস চার দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা।

বিক্ষোভ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগও দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

কয়েক ঘণ্টা ধরে অবস্থান কর্মসূচি চলার পর দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কংগ্রেস নেতাদের সরিয়ে দিতে শুরু করে। প্রথমে কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে কংগ্রেস এমপি সুখজিন্দর সিংকেও আটক করে পুলিশ।

প্রথম দফায় কয়েকজনকে আটক করা হলেও রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও আরও কয়েকজন নেতা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাদেরও ঘটনাস্থল থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে নিয়ে আটক করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি।

আটকের আগে কংগ্রেস এমপি সুখজিন্দর সিং সাংবাদিকদের বলেন, “এমপিদেরই যদি এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কী ঘটছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।”

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিল্লি পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থানরত বাকি বিক্ষোভকারীদেরও সরিয়ে দেয়। এ ঘটনার একটি ছবি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস, যেখানে রাহুল গান্ধীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

ভারতে সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দল ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার রয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্র: দ্য হিন্দু, হিন্দুস্থান টাইমস

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ