নিজস্ব প্রতিবেদক | হুদহুদ নিউজ
পিতা-মাতার সুরক্ষার অজুহাতে সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল, ২০২৬’-এর প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে ঢাকা মহানগর খেলাফত মজলিসের ব্যানারে মূল বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুরান পল্টনে অবস্থিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। সভা পরিচালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
যৌথসভায় মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, পিতা-মাতার নিরাপত্তার কথা বলা হলেও এই বিলটি বস্তুত মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যবাহী উত্তরাধিকার ব্যবস্থা, ফরায়েজ এবং বিশেষত নারীদের প্রাপ্য অধিকারকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। তিনি উল্লেখ করেন, পিতা-মাতার দেখভালের জন্য ইতিপূর্বে ২০১৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ বিদ্যমান রয়েছে এবং সাধারণ নিয়মেই তারা চাইলে সন্তানকে হেবা বা উপহার দিতে পারেন। এর পরও নতুন করে এই সুযোগকে কেন অহেতুক বিস্তৃত করা হচ্ছে, সরকারকে তার জবাব দিতে হবে।
খেলাফত মজলিস প্রধান আরও বলেন, মুসলমানদের উত্তরাধিকার ব্যবস্থা কোনো সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি ঐশ্বরিক বিধান। জীবিত থাকা অবস্থায় ঢালাওভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ বাড়ালে মৃত্যুর পর ফরায়েজ বন্টনের জন্য আর কোনো সম্পত্তিই অবশিষ্ট থাকবে না। বিশেষ করে যে সমাজে নারীরা এমনিতেই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য জমি-জমা থেকে বঞ্চনার শিকার হন, এই আইনের সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে তাদের হক পুরোপুরি হরণ করা হতে পারে।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শরিয়াহর বিধানকে রাষ্ট্রের কোনো ঐচ্ছিক বিকল্প মনে করার সুযোগ নেই। পাস হওয়া এই বিতর্কিত বিলটি অভিজ্ঞ আলেম-উলামা ও আইনজ্ঞদের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামি বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই বিলে যেন স্বাক্ষর না করা হয়। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভের দায় সরকারকেই নিতে হবে।
যৌথসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজীসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

