আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরান হরমুজ প্রণালির বাইরে ওমান সাগর ও আরব সাগরের অংশবিশেষে নতুন একটি ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’ বা নিষিদ্ধ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবির এ-সংক্রান্ত বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অঞ্চলটি ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে শুরু হয়ে ওমান সাগরের কিছু অংশ অতিক্রম করে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এই এলাকায় ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া প্রবেশকারী জাহাজ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এখনো এই অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘোষণাটি বাস্তবে কতটা বিস্তৃত এলাকায় কার্যকর হবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন একটি ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’ প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছিলেন। নতুন ঘোষণাকে সেই পরিকল্পনারই বিস্তৃত রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামুদ্রিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরান ১০টি জাহাজে হামলার দাবি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস হয়েছে বলেও তেহরান দাবি করেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো প্রয়োজন।
নতুন এই নিষিদ্ধ অঞ্চল কার্যকর হলে এর প্রভাব শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চাবাহার উপকূল, ওমান সাগর ও আরব সাগর আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের সঙ্গে যুক্ত।
জাহাজ চলাচলে নতুন কোনো বিধিনিষেধ তৈরি হলে পরিবহন ব্যয়, বীমা ব্যয় এবং পণ্য সরবরাহের সময় বাড়তে পারে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হতে পারে জ্বালানি বাজারে। সামুদ্রিক পথে তেল পরিবহনে ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে বাজারে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক যোগাযোগের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আরব সাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আমদানি ব্যয়, জাহাজভাড়া এবং পরোক্ষভাবে ভোক্তা পর্যায়ের দামে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এখনই বলা যাচ্ছে না যে ইরান পুরো আরব সাগর বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মূল বিষয় হলো নতুন একটি নির্দিষ্ট ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’ ঘোষণার পরিকল্পনা। এর সীমানা, স্থানাঙ্ক এবং বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে এর প্রকৃত প্রভাব স্পষ্ট হবে।
