শিক্ষার্থী দমনে ‘সাদা পোশাক বাহিনী’? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে প্রশ্ন

শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে সাধারণ পোশাকে লাঠিধারীদের উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনার ঝড়; দ্বিতীয় দিনও যন্তর মন্তরে উত্তেজনা, মোদির বাসভবনের সামনেও বিক্ষোভ

by ABDUR RAHMAN
শিক্ষার্থী দমনে সাদা পোশাক বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের পর এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সাধারণ পোশাকে লাঠি হাতে থাকা একদল ব্যক্তির উপস্থিতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের ব্যবহৃত স্ট্যান্ডার্ড-ইস্যু লাঠি হাতে কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন, অথচ তাদের পরনে পুলিশের কোনো ইউনিফর্ম ছিল না। এসব ব্যক্তির পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে দিল্লি পুলিশকে ট্যাগ করে জানতে চেয়েছে, সাধারণ পোশাকে লাঠি হাতে থাকা ব্যক্তিরা কারা। সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালাতে পুলিশ বহিরাগতদের ব্যবহার করেছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম এবং বহুল আলোচিত নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করেন। যন্তর মন্তরের কাছে তাদের থামিয়ে দেয় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বহু আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে হতাহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

সিজেপির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেন। এরপর পুলিশ ও ওই লাঠিধারীরা একসঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়েছেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরও কিছু ভিডিওতে পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে বাস ও অন্যান্য যানবাহনের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক, অধিকারকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক রবীশ কুমারসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানে সাধারণ পোশাকের এসব ব্যক্তির ভূমিকা কী এবং তারা কারা।

এদিকে সোমবারের সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারও দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। কড়া নিরাপত্তা, অতিরিক্ত ব্যারিকেড এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েনের মধ্যেও আন্দোলনকারীরা সেখানে সমবেত হয়ে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি ঘিরে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা। তারা আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে হায়দরাবাদসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনগুলোও প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, সাধারণ পোশাকে লাঠিধারীদের পরিচয় প্রকাশ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ