অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হল শাখার ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘কীসের সাংবাদিক’ বলে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করছিলেন।
আহত সাংবাদিকদের নাম
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আহত সাংবাদিকরা হলেন—
১. মানজুর হোসেন মাহি (কালের কণ্ঠ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি)
২. লিটন ইসলাম (আগামীর সময়, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক)
৩. শামসুদ্দৌজা নবাব (ঢাকা ট্রিবিউন)
৪. মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত (ঢাকা মেইল)
৫. হারুন ইসলাম (নয়া দিগন্ত)
৬. আসাদুজ্জামান খান (মানবজমিন)
৭. নাইমুর রহমান ইমন (ডেইলি অবজারভার)
৮. সৌরভ ইসলাম (রাইজিংবিডি প্রতিনিধি)
৯. মাহাথীর মোহাম্মদ (দ্য ডেইলি স্টার)
১০. ছাব্বিরুল ইসলাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন)
গুরুতর আহত মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে আঘাত পান এবং তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম এসেছে
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী হামলায় জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন—
১. আবু জ্বার গিফারী ইফাত (মুহসিন হল ছাত্রদল আহ্বায়ক)
২. মনসুর রাফি (মুহসিন হল ছাত্রদল সদস্য সচিব)
৩. জুনায়েদ আবরার (শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদল সদস্য সচিব)
৪. সাকিব বিশ্বাস ও সাজ্জাদ খান (বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদল নেতা)
৫. মনোয়ার হোসেন প্রান্ত (সূর্যসেন হল ছাত্রদল আহ্বায়ক)
৬. কারিব চৌধুরী (জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদল নেতা)
৭. মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল (কবি জসিমউদদীন হল ছাত্রদল নেতা)
৮. হাসান (শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদল নেতা)
৯. বজলুর রহমান বিজয় (ঢাবি ছাত্রদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)
১০. ইমাম আল নাসের মিশুক (ঢাবি ছাত্রদল নেতা)
এছাড়া ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আরও অনেক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, ভিডিও ধারণের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং পরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে পরিচয় দেওয়ার পরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মানজুর হোসেন মাহি বলেন, “আমরা পরিচয় দেওয়ার পরও হামলা করা হয়।”
অন্যদিকে সৌরভ ইসলাম জানান, একটি ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে অন্য সাংবাদিকদের ওপরও হামলা হয়।
এ বিষয়ে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেছেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর/

