আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম New York Post-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই সম্ভাবনার কথা জানান। একই তথ্য প্রকাশ করেছে BBC-সহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে—দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে জোরদার হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট ট্রাম্পের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় বলেন, “এটা সম্ভব!”—যা সম্ভাব্য আলোচনার ব্যাপারে তার ইতিবাচক অবস্থানকে স্পষ্ট করে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কমাতে এবং একটি ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ তৈরির সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হবে। মূলত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
হোয়াইট হাউসের ধারণা, এই অতিরিক্ত সময় সরাসরি আলোচনার পথ সুগম করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সময়সীমা বৃদ্ধি ও নমনীয় অবস্থান একটি নতুন চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তবে এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও সংশয় প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, এটি হঠাৎ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সময় নেওয়ার কৌশলও হতে পারে।
অন্যদিকে, Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে আলোচনায় বসতে রাজি ইরান। ফলে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনভাবে ব্যাখ্যা করা যায়—অনিশ্চয়তা, ভঙ্গুরতা এবং জটিলতা। যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলেও নতুন সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এখন বিষয়টি শুধু অবিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা নিয়েও তেহরানে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তবে সবকিছু মিলিয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সময়ের মধ্যে ইরান কোনো কার্যকর প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির গতি।
বিশ্বজুড়ে এই সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সফল আলোচনা হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
আর/

