দুবাই-রিয়াদ-দোহা—সব রুটে উড়ছে ইউএস-বাংলা, সব ফ্লাইট এখন নিয়মিত

যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব কাটিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট শুরু; দুবাই, রিয়াদ, জেদ্দাসহ সব গন্তব্যে সেবা অব্যাহত

by ABDUR RAHMAN

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক হয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কার্যক্রম। প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত সহজ করতে এয়ারলাইন্সটি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সব রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথে বিধিনিষেধের কারণে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মতো ইউএস-বাংলার ফ্লাইট সূচীতেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির উন্নতির ফলে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞাপন
banner

বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিয়মিতভাবে দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, মাস্কাট, দোহা, রিয়াদ এবং জেদ্দা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এসব রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রবাসীদের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ঢাকা-দোহা রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে দোহার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। একই দিন স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে দোহা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইটটি ফিরে আসবে।

এদিকে ঢাকা-মাস্কাট রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও মাস্কাট থেকে ফেরার পথে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় অবতরণ করছে। এছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে প্রতিদিন দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

রুটভিত্তিক ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, আবুধাবি গন্তব্যে সপ্তাহে ছয়দিন (বৃহস্পতিবার ব্যতীত) এবং শারজাহ রুটে সপ্তাহে চারদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। পাশাপাশি সৌদি আরবের রিয়াদ রুটে সপ্তাহে পাঁচদিন এবং জেদ্দা রুটে সপ্তাহে তিনদিন ফ্লাইট চালু রয়েছে।

বিমান পরিচালনায় আধুনিক বহর ব্যবহার করছে এয়ারলাইন্সটি। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রুটে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে রিয়াদ ও জেদ্দা রুটে দীর্ঘ দূরত্বের জন্য এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে ৩টি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ফলে এসব রুটে ফ্লাইট স্বাভাবিক হওয়ায় শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বর্তমান রুটগুলোর পাশাপাশি খুব শিগগিরই মদিনা ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের। নতুন এসব রুট চালু হলে প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পুনরুদ্ধার দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক সংযোগ আরও জোরদার করবে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ