সিলেটে রেকর্ড লোডশেডিং: দিনে ১০–১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, বিপর্যস্ত জনজীবন

এসএসসি পরীক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে—৩০ মেগাওয়াট ঘাটতিতে সংকট তীব্র

by ABDUR RAHMAN
সিলেটে রেকর্ড লোডশেডিং

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

সিলেট বিভাগজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে মিলিয়ে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। শহর এলাকায় কিছু সময় পরপর বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, যেখানে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তারা ঠিকমতো পড়াশোনা ও রিভিশন করতে পারছেন না। রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। অনেক এলাকায় পরীক্ষার আগমুহূর্তেও বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা খাতেও। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎনির্ভর দোকান, রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুড, কোল্ড স্টোরেজ ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে জেনারেটর চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলে দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ২০৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৭৫ মেগাওয়াট। প্রায় ৩০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে দিনে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং করা হচ্ছে। রাত ১২টার পর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তুলনামূলক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দিনের বেলায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হবিগঞ্জের বিবিয়ানা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকা, জ্বালানি সংকট এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই রেশনিং পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

সিলেটের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত কোনো সময়সূচি না থাকায় তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ব্যবসায়ী নেতারা পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

পিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ