কারাগারে ‘স্লো পয়জনিং’-এর অভিযোগ: খালেদা জিয়াকে হত্যা চেষ্টা, তদন্তে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল

অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি; চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় বলছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

by ABDUR RAHMAN
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে কারাগারে ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগ (স্লো পয়জনিং) করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আবেদন জমা পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

রোববার ‘গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান, কানাডাপ্রবাসী মোহাম্মদ মমিনুল হক মিলন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো ও জরাজীর্ণ কারাগারে রাখা হয়, যেখানে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল না। সেখানে থাকার সময়ই তার শরীরে ‘স্লো পয়জনিং’ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কারাবাসের সময় তার বয়স ছিল ৭৫ বছরের বেশি এবং অসুস্থ হয়ে পড়লেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি লিভার সিরোসিস, পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, খালেদা জিয়ার পরিবার ও চিকিৎসকরা বারবার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার অনুমতি চাইলেও তৎকালীন সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে পরিকল্পিতভাবে তাকে চিকিৎসাবঞ্চিত করা হয়েছে এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে দাবি করা হয়।

আবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপির নেতারাও অতীতে একাধিকবার একই অভিযোগ তুলেছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২১ সালে প্রথম ‘স্লো পয়জনিং’-এর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। পরবর্তীতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার পর খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়। ২০২৪ সালের পর মুক্তি পেলেও তিনি আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ