অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ক্ষমতাগ্রহণের মাত্র ৫২ দিনের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বর্তমান সরকার। ফলে চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারের মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা, যা বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার ১০৮ শতাংশ। চলতি বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬৮ হাজার ২২৯ কোটি টাকা ঋণ নেয়। পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়েই ঋণ গ্রহণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই সরকারের এই ঋণ নির্ভরতা বাড়ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব সংগ্রহ করতে পেরেছে। ফলে ব্যয় মেটাতে সরকারকে ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সংঘাতের কারণে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরীর মতে, বাজেটে রাজস্ব আয়ের ওপর ভিত্তি করেই ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় ঘাটতি পূরণে ঋণ নিতে হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ঋণ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরও দেখা যায়, গত অর্থবছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকায়।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও সরকারের ঋণ দ্রুত বাড়ছে। গত অর্থবছরের শেষে যেখানে এই ঋণ ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৭ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেট ঘাটতি পূরণে সাধারণত সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—দুই উৎস থেকেই ঋণ নেয়। তবে বৈদেশিক সহায়তা কমে গেলে ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ আরও বাড়ে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
আর/

