অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেছেন, দেশে আবারও “শব্দের রাজনীতি” শুরু হয়েছে, যা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এই শব্দগুলো ব্যবহার করেই অতীতে মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে তা সহিংসতার নীরব অনুমতিতে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে যেসব গুম ও খুনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ট্যাগ বা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গী’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’, ‘রাজাকার’—এই শব্দগুলোকে তিনি “মানুষ হত্যার আদর্শিক অস্ত্র” হিসেবে উল্লেখ করেন।
মিতু অভিযোগ করেন, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করলেই মানুষকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হতো এবং জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য এসব শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। তার মতে, এই ভাষা এখন শুধু রাস্তায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং পার্লামেন্ট, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং শিক্ষাঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রবণতার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো—যেমন শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন—উপেক্ষিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিতর্কে শব্দের অপব্যবহার এতটাই বাড়ছে যে নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো আলোচনার বাইরে চলে যাচ্ছে।
একজন মা হিসেবে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শব্দের শেষটা রক্তে গিয়ে থামে, আর রক্ত দেখতে ইচ্ছা করে না।” একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লাগাম না টানলে ভবিষ্যতে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
আর/

