অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়ে সাবেক যুবদল নেতা ইসহাক সরকার বর্তমান সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে না দিলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে কথা বলার অধিকার ফিরে এসেছে, তবে সেই অধিকার আবারও হুমকির মুখে পড়লে জনগণ চুপ করে থাকবে না।
ইসহাক সরকার বলেন, “আমরা চাই সরকার জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুক। যদি আবার ফ্যাসিবাদী আচরণ দেখা যায়, তাহলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।”
তিনি অতীত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে বহু ত্যাগ ও রক্তের ইতিহাস রয়েছে। ছাত্রদের আন্দোলনের সময় তিনি নিজেও রাজপথে নেমেছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
নিজেকে ‘বক্তা নয়, বরং একজন সংগ্রামী কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইসহাক সরকার জানান, জীবনের একটি বড় সময় তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১০ বছর জেল খেটেছেন এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে বহু সহযোদ্ধাকে হারিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবার রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল। তবুও তিনি কখনো আপস করেননি বলে দাবি করেন।
নিজের আগের রাজনৈতিক দল থেকে সরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি যে দলের সঙ্গে ছিলাম, তারা এখন আর গণতান্ত্রিক ধারায় নেই। ইতিহাস ভুলে গেলে কোনো দল টিকে থাকতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার না হওয়ায় এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিদেশি প্রভাব প্রসঙ্গে ইসহাক সরকার বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কোনো বিদেশি শক্তির কাছে নত হবে না এবং জনগণ তা মেনে নেবে না।
এনসিপিকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই দলের মাধ্যমেই জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।” একইসঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
শেষে তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তন যদি রাজনৈতিকভাবে না আসে, তবে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই তা আদায় করা হবে।
আর/

