ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন অভিযান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। এই ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রবিবার ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, দক্ষিণ ইসফাহান প্রদেশের একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এই ‘ছলনামূলক’ উদ্ধার অভিযান চালানোর চেষ্টা করে। তবে ইরানের প্রতিরোধের মুখে তা সফল হয়নি।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’-এর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এক বিবৃতিতে বলেন, “পাইলট উদ্ধারের অজুহাতে একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে মার্কিন বাহিনী যে প্রতারণামূলক ও পালানোর মিশন পরিকল্পনা করেছিল, তা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে, একই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে “সবচেয়ে সাহসী” একটি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির সামরিক সদর দপ্তরের মুখপাত্র আবারও জোর দিয়ে বলেন, “ভূপাতিত বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী মরিয়া হয়ে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু আল্লাহর অশেষ কৃপায় ইরানি বাহিনীর প্রচেষ্টায় তা ব্যর্থ হয়েছে।”
এই পরস্পরবিরোধী দাবির ফলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আর/

