ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের সমঝোতার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশ হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের বিনিময়ে যদি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা হয় তাহলে জনগণ প্রতিরোধ করবে। সরকার ব্যর্থ হলে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। এটা অব্যাহত থাকলে আমরা রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক দিবো।”
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “সারাদেশে, জেলায়, উপজেলায় বিচার চলমান আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হচ্ছে। আর মিডিয়ায় উৎসবের সঙ্গে প্রচার করছে এবং উৎসাহ দিচ্ছে।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ এবং ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে।” দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে শপথ নেওয়া হলেও শপথ গ্রহণের প্রথম দিনেই সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত ছিল, কিন্তু সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দ্রুত শপথ গ্রহণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “দ্রুত সংসদ অধিবেশন ডাকা এবং তার আগে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।” একই সঙ্গে সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত আহ্বানের দাবি জানান তিনি।
মন্ত্রিসভা গঠন নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, নতুন মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে এবং অনেক বৃহত্তর অঞ্চল থেকে কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি। এছাড়া এটি যথেষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক বা প্রতিনিধিত্বশীল নয়; নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত হয়নি।
তিনি বলেন, “মন্ত্রিসভার গড় বয়স প্রায় ৬০ বছর, যা তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন নয়।” তার দাবি, মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী এবং অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ী হওয়ায় তারা জনগণের চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। তার অভিযোগ, এদের অনেকেই ঋণখেলাপি এবং তাদের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “তিনটি মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, খুন ও ঋণখেলাপী হওয়ার অভিযোগ আছে। সেই ঋণ তারা কবে পরিশোধ করবেন এটা বাংলাদেশের মানুষ জানতে চায়। ঋণ পরিশোধ ছাড়া তাদের মুখে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা শোভা পায় না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তারাও এই মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছে।”
আর/

