আফগানিস্তানে নারী ও শিশুদের ওপর শারীরীক শাস্তি প্রয়োগের মাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ মহল।
বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবান প্রশাসন একটি নতুন ফৌজদারি বিধি জারি করেছে। ওই বিধি অনুযায়ী, নারী ও শিশুদের ওপর এমন মাত্রার গৃহস্থালি শাস্তি সহনীয় হিসেবে ধরা হবে, যাতে তাদের হাড় না ভাঙে বা খোলা ক্ষত সৃষ্টি না হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবতুল্লাহ আখুন্দজাদার স্বাক্ষরের পর বিধিটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি বৈধতা পেয়েছে।
নতুন আইনে স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিক শাস্তি দিতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ফলে যদি স্পষ্ট হাড় ভাঙা বা গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়, তাহলে স্বামীর কারাদণ্ড হবে।
আরও বলা হয়েছে, শাস্তি তখনই কার্যকর হবে যখন ভুক্তভোগী নারী আদালতে সহিংসতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হবেন। আদালতে হাজিরার সময় তাকে পূর্ণ পর্দা মেনে চলতে হবে এবং বিচারকের সামনে আঘাতের চিহ্ন দেখাতে হবে। পাশাপাশি আদালতে তার সঙ্গে স্বামী বা কোনো পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো বিবাহিত নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া কারোর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে বিধিতে উল্লেখ রয়েছে।
গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শারীরিক শাস্তি সংশোধনাগারের পরিবর্তে ধর্মীয় আলেমদের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৯০ পৃষ্ঠার এই নতুন বিধির আওতায় ২০০৯ সালে প্রণীত নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আইন (EVAW) বাতিল করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী মার্কিন-সমর্থিত সরকারের আমলে কার্যকর ছিল।
আবুআ/

