অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও টেকসই জাতীয় অগ্রগতির জন্য শিক্ষাখাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ, শিক্ষক প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য ও গবেষকরা। তারা বলেছেন, শুধু অবকাঠামো নয়, শিক্ষার গুণগত মান ও সুশাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংলাপে আসন্ন জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে মোট জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, প্রতি বছর বাজেট এলেও জনগণ বাস্তব পরিবর্তন দেখতে পায় না। বাজেট প্রণয়নে কল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন জরুরি।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বলেন, শিক্ষা কাঠামোয় কার্যকর পরিবর্তন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দিলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ এমপি বলেন, দেশে ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষাকে আরও বিস্তৃতভাবে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে শিক্ষাখাতে অপচয় ও অনিয়ম হচ্ছে। শিক্ষকদের ট্যাব সরবরাহের মতো প্রকল্পের পরিবর্তে শিক্ষা উপকরণ, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে বাজেট বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
সংলাপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় কমিয়ে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তব প্রয়োজনের প্রতিফলন জাতীয় বাজেটে খুব কমই দেখা যায়।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, শিক্ষা মৌলিক অধিকার হলেও দেশে এখনো শিক্ষার একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর কাঠামো গড়ে ওঠেনি। তিনি মনে করেন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে কেবল বাজেট বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষা প্রশাসক ও শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। ইউনেস্কো দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বাজেটের বড় অংশ শিক্ষায় বিনিয়োগের সুপারিশ করে আসছে। তবে বাস্তবে গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষাখাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সংলাপে।
আর/

