অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং গ্রামে ছেলেকে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে রক্ষা করতে গিয়ে গৃহবধূ ছৈয়দা খাতুন (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) রাত ৮টার দিকে নিহতের ছেলে আব্দুর রহমান উখিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে সেটিকে নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করে পুলিশ।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার ছেলে ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসানকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া মামলায় আরও যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম, সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ বাবুল, ছাত্রদল নেতা জুলফিকার আকাশ, শ্রমিকদল নেতা সাইফুল ইসলাম সিকদার, জাহাঙ্গীর আলম, জামাল উদ্দিন, রফিক উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে টাইপালং গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একদল লোক আব্দুর রহমানের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার সময় ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তার মা ছৈয়দা খাতুন। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলেও ছৈয়দা খাতুনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে টাইপালং গ্রামে নিহতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজনসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, একজন মা নিজের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
মামলার বাদী আব্দুর রহমান বলেন, “আমার মাকে আমার সামনেই হত্যা করা হয়েছে। যাদের ঘটনাস্থলে দেখেছি, তাদের নামই মামলায় দিয়েছি। আমি আমার মায়ের বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
আর/

