আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাথমিক ধারণার তুলনায় ভাইরাসটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এর প্রকৃত সংক্রমণ সংখ্যা বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে এই পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস বলেছেন, প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা ও সংক্রমণের গতি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
বর্তমানে ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশকে এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। অঞ্চলটি নিরাপত্তাহীন ও উচ্চ জনচলাচলপূর্ণ হওয়ায় রোগ শনাক্ত, সংক্রমণ অনুসন্ধান এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দেশটিতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশ’ সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে লন্ডনভিত্তিক এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের সাম্প্রতিক মডেলিংয়ে বলা হয়েছে, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের বেশি হতে পারে।
ডব্লিউএইচও’র প্রতিনিধি ড. অ্যান অ্যান্সিয়া জানান, তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে ভাইরাসটি ইতোমধ্যে একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম শনাক্ত হওয়ার আগেই কয়েক সপ্তাহ ধরে নীরবে সংক্রমণ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে বিকল্প চিকিৎসা ও প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে কি না, তা নিয়ে কাজ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, তীব্র দুর্বলতা, পেশীতে ব্যথা, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা। পরবর্তী সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে র্যাশ এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণও দেখা দিতে পারে।
ইতোমধ্যে রাজধানী কিনশাসায় একজন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যিনি ইতুরি অঞ্চল থেকে ফিরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও নিশ্চিত সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা আঞ্চলিক সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করা গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা
আর/

