অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (১৯ মে) ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, দাপ্তরিক ও একাডেমিক কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের উপেক্ষা করে বাইরের একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। এ দাবিতে কয়েকদিন ধরে আন্দোলন, বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার বিকেলে ক্যাম্পাসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে আন্দোলনকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তারা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তোলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখা হলেও পাশের পকেট গেট দিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কিছু কর্মচারীকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ফটকের সামনে বিভিন্ন আসবাবপত্র ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। তবে সকাল পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’, ক্যাম্পাস অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
রোববার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবারও ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেন। পরে আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। একইদিন বিকেলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে ডুয়েট শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার দুপুরের পর নতুন উপাচার্য পুলিশের সহায়তায় এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন— এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারীরা পুনরায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা “বহিরাগত ভিসি মানি না, মানব না” স্লোগান দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন উপাচার্য ইতোমধ্যে দাপ্তরিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের কারণে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক নিয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের নজির দেখা গেছে। ডুয়েট পরিস্থিতিও এখন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আর/

