আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইসরায়েলি সরকারের এক শীর্ষ মন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। দেশটির কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছেন, পশ্চিম তীরের এ, বি ও সি অঞ্চলের মধ্যকার বিভাজনরেখা স্থায়ীভাবে তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মোটরিচের এই বক্তব্যকে পশ্চিম তীরকে কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি মহলে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
১৯৯৫ সালে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত অসলো-২ চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়—এ, বি ও সি। এই কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই অঞ্চলটির প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
চুক্তি অনুযায়ী, এ অঞ্চল পশ্চিম তীরের মোট ভূমির ২১ শতাংশ নিয়ে গঠিত এবং এটি পুরোপুরি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণাধীন। অন্যদিকে বি অঞ্চল মোট ভূমির ১৮ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত, যেখানে প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ইসরায়েল।
সি অঞ্চল পশ্চিম তীরের সবচেয়ে বড় অংশ, যা মোট ভূমির প্রায় ৬২ শতাংশ। এই পুরো অঞ্চলই ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি বি অঞ্চলের গ্রাম ও গ্রামীণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ইসরাইলি বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইল সরকার পশ্চিম তীরে ভূমি নিবন্ধন ও বেসামরিক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ অসলো চুক্তির চেতনার পরিপন্থি এবং ধীরে ধীরে পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী করার কৌশল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অবস্থান ভবিষ্যতে পশ্চিম তীরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াকেও আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, এ, বি ও সি অঞ্চলের বিভাজন তুলে দেওয়ার অর্থ হবে অধিকৃত ভূখণ্ডের স্বতন্ত্র অবস্থানকে অস্বীকার করা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলা।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

